মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই
বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা ছুটি বৃদ্ধি করার পর সব শেষ
ছুটি গিয়ে ঠেকেছে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত। তবে ৬ আগস্টেও যে খুলছে না কোন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেটারও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।এদিকে গত দুইদিন আগে একটি ভুয়া ফেসবুক পেইজের মধ্য থেকে গুজব ছড়িয়ে
দেয়া হয় ঈদের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু হতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন খবর
ভিত্তিহীন বলেও উড়িয়ে দেয়া হয়েছে
সরকারের পক্ষ থেকে। শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি ইতোমধ্যে হুশিয়ারিও
দিয়েছেন যারা এই ধরনের গুজব ছড়াবে তাদের বি’রুদ্ধে ক’ঠোর
ব্যাবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে যখন এত জল্পনা শুরু হয়েছে তখন
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার
ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্তের কথা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন
জানান সেপ্টেম্বরের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর
মাসের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো ইচ্ছা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেব। মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে বর্ধিত ছুটি শেষ হতে এখনও বেশ
কয়েকদিন বাকি আছে। ছুটি শেষ হবার আগেই আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন পরিস্থিতি
স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। সময় হিসেবে সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। কবে নাগাদ শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান খোলে সেটার জন্য তাই এখন কেবলই অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ঈদুল আজহার
পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। তবে
সেটিকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে বুধবার রাতে বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সেখানে বলা হয়, ঈদের পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা
বোর্ড নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে সংবাদটি প্রচার করা হয়। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও
গুজব। তাই এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত না
হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যখনই এ
বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তখনই তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের
জানানো হবে।
তাছাড়া ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। আর বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা বোর্ড নামে
দেশে কোনো বোর্ডও নেই।
