Subscribe Us

মায়ের সাথে আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ফেলায় হত্যা করা হয়েছে রয়েলকে



জয়পুরহাট সংবাদদাতা:জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের ছাওয়াল পাড়া গ্রামের দিন মজুর বকুল হোসেনের ছেলে স্থানীয় হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রয়েল।দিন দশেক আগে সন্ধ্যার পর হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এরই মধ্যে পহেলা জুলাই জয়পুরহাটের বানিয়াপাড়া কামিল মাদ্রাসা এলাকার তুলশীগঙ্গা নদী থেকে অর্ধগলিত একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নিখোঁজ হওয়া রয়েলের মুঠোফোনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার তার আপন ফুপা ট্রাক চালক আমান উল্লাহকে আটক করে পুলিশ।
আটকের পর আমান উল্লাহ পুলিশকে বলেন, তার মায়ের সাথে আপত্তিকর অবস্থা দেখে ফেলে রয়েল। এ ঘটনা সে তার বাবাকে বলে দিলে ওই বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয়। আর এই ক্ষোভের জের ধরেই পথের কাটা ভেবে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছিলাম।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঘাতক আরও বলেন, জয়পুরহাট শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে নেই। এরপর হিচমী বাজার থেকে দুটি কোল্ড ড্রিংকস কিনি এবং কড়ই মাদ্রাসা পাড়া এলাকার একটি ফার্মেসী থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেগুলোর একটিতে মিশ্রণ করি। এরপর তাকে খাওয়ায়ে অজ্ঞান করার পর তার পড়নের গেঞ্জি দিয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেই।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খাঁন বলেন, অভিযুক্ত আসামি আমান উল্লাহ নিজেই এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে-রয়েলের মায়ের সাথে আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী নিহত রয়েলের মা পান্না বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আমান উল্লাহকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কারা জড়িত আছে, তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।